চুপচাপ ইবাদত চালিয়ে যান: দুর্দিনে কাজে আসবে | ফিতনার সময়ে করণীয়
আসসালামু আলাইকুম। আজকে একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কথা বলি? চারদিকে এখন অনেক আওয়াজ। ফেসবুকে একজন এক কথা বলে, ইউটিউবে আরেকজন আরেক কথা বলে। কে ঠিক, কে ভুল - এই ভাবতে ভাবতে আমরা সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা।
আর সবচেয়ে কষ্টের বিষয় কি জানেন? এই দিশেহারায় আমাদের যে টুকটাক ইবাদত ছিল, নামাজ, তসবিহ, কুরআন পড়া, সেটাও আস্তে আস্তে শূন্যের কোটায় নেমে আসছে। আজকের পোস্টটি তাদের জন্য, যারা ক্লান্ত, যারা চুপ হয়ে গেছেন। আমার একটি ছোট্ট পরামর্শ, চুপচাপ ইবাদত চালিয়ে যান।
১. কেন চুপচাপ?
দেখুন, আল্লাহ তাআলা হাশরের মাঠে জিজ্ঞেস করবেন না "অমুক বক্তা কি বলেছিল?" আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন "তুমি কি করেছিলে?"
নবীজি (সা.) বলেছেন, ফিতনার সময়ে চুপ থাকা, নিজের ঘরে থাকা, আর নিজের আমল নিয়ে ব্যস্ত থাকা এটাই মুক্তি।
তাই অন্যের বিতর্কে না জড়িয়ে, নিজের আমলটা আঁকড়ে ধরে রাখুন। কে কি বলল, তাতে কান দেবেন না। আপনার হিসাব আপনাকেই দিতে হবে।
২. অল্প আমলই যথেষ্ট, যদি নিয়মিত হয়
আমরা ভাবি, অনেক বড় কিছু করতে হবে। না।
নবীজি (সা.) বলেছেন "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।" [বুখারী] আপনি যদি প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটও কুরআন পড়েন, মাত্র ২ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়েন, বা ঘুমানোর আগে শুধু ৩ বার সূরা ইখলাস পড়েন - কিন্তু তা প্রতিদিন পড়েন, এটাই আল্লাহর কাছে পাহাড় সমান।
আজ থেকে তিনটা ছোট আমল ঠিক করুন, যেটা আপনি কাউকে না জানিয়ে চুপচাপ চালিয়ে যাবেন।
যেমন:
১. ৫ ওয়াক্ত নামাজ যত কষ্টই হোক, ছাড়বেন না। এটাই আপনার খুঁটি।২. দিনে ১০০ বার 'আস্তাগফিরুল্লাহ' হাঁটতে হাঁটতে, কাজ করতে করতে।৩. প্রতিদিন ফজরের পর ৫ মিনিট অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত সাদ্যমতো আপনি বেশিও পড়তে পারেন।
বাস, এইটুকুই। কাউকে বলার দরকার নেই।
৩. এই চুপচাপ ইবাদত দুর্দিনে কাজে আসবে কিভাবে?
কুরআনে একটা ঘটনা আছে। ইউনুস (আ.) যখন মাছের পেটে অন্ধকারে আটকা পড়লেন, তখন তিনি একটি দোয়া পড়েছিলেন - "লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমীন।"
আল্লাহ বলেছেন, ইউনুস যদি আগে থেকে বেশি বেশি তসবিহ পাঠকারী না হতেন, তাহলে তিনি কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেটেই থেকে যেতেন। [সূরা সাফফাত: ১৪৩-১৪৪]
মানে কি? সুখের দিনের চুপচাপ ইবাদতগুলোই দুঃখের দিনে আপনাকে বাঁচাবে।
আপনার আজকের এই ২ রাকাত নামাজ, এই ছোট্ট দোয়া - হয়তো কাল আপনার বড় কোনো বিপদে, অসুস্থতায়, বা কবরের অন্ধকারে আলো হয়ে দাঁড়াবে। আরেকটি পোস্ট পড়ুন: হিংসা আমাদের নেক আমল কিভাবে কেড়ে নিচ্ছে।
তাই ভাই, হতাশ হবেন না।
সবাই যখন কথা বলছে, আপনি তখন চুপচাপ সেজদায় থাকুন।
সবাই যখন অন্যকে বিচার করছে, আপনি তখন নিজের গুনাহর জন্য কাঁদুন।
আসুন, আজ থেকেই আবার শুরু করি। কাল নয়, আজ থেকেই।
আল্লাহ আমাদের এই অল্প অল্প, চুপচাপ চালিয়ে যাওয়া আমলগুলো কবুল করে নিন। সেই রোজ হাসরের দিনে, যে দিন কেউ কারো কোন উপকারে আসবে না, সেই দিন চুপচাপ থেকে চালিয়ে যাওয়া ছোট ছোট আমলের অসিলায় আল্লাহ আমাদেরে মাপ করে দিয়ে জান্নাত নসিব করিও আমিন।
আপনাদের জিজ্ঞাসা ও আমাদের উত্তর
প্রশ্ন ১: চারদিকে এত মতভেদ ও বিতর্ক, সাধারণ মুসলিম হিসেবে আমার কী করা উচিত?
উত্তর: বিতর্কে না জড়িয়ে নিজের মূল ইবাদতে মনোযোগ দিন। ৫ ওয়াক্ত নামাজ, প্রতিদিন অল্প করে কুরআন তেলাওয়াত ও ইস্তেগফার চালিয়ে যান। ফিতনার সময়ে চুপ থাকা এবং নিজের আমল নিয়ে ব্যস্ত থাকাই নবীজি (সা.) এর নির্দেশিত মুক্তির পথ।
প্রশ্ন ২: অল্প আমল কি আসলেই কাজে আসবে? বেশি আমল করতে না পারলে কী হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই কাজে আসবে। নবীজি (সা.) বলেছেন, "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়" [বুখারী]। প্রতিদিনের ১০০ বার আস্তাগফিরুল্লাহ বা ৫ মিনিট কুরআন পাঠের মতো ছোট কিন্তু নিয়মিত আমলই সুখের সময়ে আপনাকে আল্লাহর কাছে প্রিয় করবে এবং দুর্দিনে আপনার জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।
প্রশ্ন ৩: সুখের সময়ের ইবাদত দুর্দিনে কিভাবে কাজে আসে?
উত্তর: ইউনুস (আ.) এর ঘটনাই এর প্রমাণ। আল্লাহ কুরআনে বলেন, তিনি যদি আগে থেকে তসবিহ পাঠকারী না হতেন, তবে মাছের পেটেই থেকে যেতেন [সূরা সাফফাত: ১৪৩]। আপনার আজকের চুপচাপ, গোপন ইবাদতগুলোই কাল কঠিন বিপদ, অসুস্থতা বা কবরের অন্ধকারে আপনার জন্য আলো ও সাহায্য হয়ে আসবে।
