বিকাশ ও সেলফিন অ্যাপ দিয়ে বিমানের টিকিট কাটার সহজ নিয়ম | সম্পূর্ণ গাইড
বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই যেকোনো অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক রুটের বিমানের টিকিট বুকিং করা সম্ভব। কাউন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়াতে মোবাইল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপগুলো এখন দারুণ সমাধান নিয়ে এসেছে। বিকাশ (bKash) এবং সেলফিনের (CellFin) মতো জনপ্রিয় অ্যাপ ব্যবহার করে কীভাবে কয়েক মিনিটে ফ্লাইটের টিকিট কাটবেন এবং ব্যাংক কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করবেন, তার বিস্তারিত নিয়ম নিচে আলোচনা করা হলো।
##মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপে বিমানের টিকিট বুকিং
মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপগুলো এখন আর শুধু টাকা লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন টিকিট বুকিং এজেন্সির সাথে যুক্ত হয়ে এই অ্যাপগুলো সরাসরি ফ্লাইট টিকিট কেনার সুবিধা দিচ্ছে।
*সময় ও শ্রমের সাশ্রয়: ঘরে বসেই যেকোনো সময় টিকিট বুক করা যায়।
*সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা: আলাদা কোনো কার্ড বা জটিল প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না।
*ক্ষণিক নিশ্চিতকরণ: পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই ই-টিকিট চলে আসে।
##বিকাশ অ্যাপ থেকে বিমানের টিকিট কাটার ধাপসমূহ
বিকাশ অ্যাপের 'টিকিট' সেকশন ব্যবহার করে খুব সহজেই টিকিট কেনা সম্ভব। নিচে এর পুরো প্রক্রিয়াটি দেওয়া হলো:
*অ্যাপে লগইন: প্রথমে আপনার বিকাশ অ্যাপে পেমেন্ট পিন দিয়ে প্রবেশ করুন।
*টিকিট অপশন নির্বাচন: মূল স্ক্রিনের 'আরও' বাটনে ট্যাপ করে 'টিকিট' আইকনটি সিলেক্ট করুন।
*বিমান আইকন চয়ন: টিকিট সেকশনে গিয়ে 'বিমান' বা 'Air Ticket' অপশনে ক্লিক করুন।
*রুট ও তারিখ নির্ধারণ: আপনি কোথা থেকে কোথায় যেতে চান (From/To) এবং যাত্রার তারিখ নির্দিষ্ট করুন।
*ফ্লাইট ও সিট পছন্দ: উপলব্ধ ফ্লাইটগুলোর তালিকা থেকে আপনার সুবিধাজনক ফ্লাইট এবং সিট বেছে নিন।
*যাত্রীর তথ্য প্রদান: যাত্রীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের তথ্য দিন।
*বিকাশ পিন সাবমিট: সব তথ্য যাচাই করে আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর দিয়ে বুকিং নিশ্চিত করুন।
##cellfin থেকে বিমানের টিকিট বুকিংয়ের উপায়
ইসলামী ব্যাংকের ডিজিটাল ওয়ালেট সেলফিন (CellFin) ব্যবহার করেও সহজে ফ্লাইটের টিকিট কেনা যায়। সেলফিন অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কাটার নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:
*সেলফিন অ্যাপে প্রবেশ: আপনার সেলফিন অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ৬ ডিজিটের পিন দিয়ে অ্যাপে লগইন করুন।
*টিকিট সেকশনে যান: অ্যাপের ড্যাশবোর্ড থেকে 'Ticket' বা 'ফ্লাইট বুকিং' অপশনটি খুঁজে বের করুন।
*ভ্রমণের বিবরণ সাবমিট: ওয়ান-ওয়ে বা রাউন্ড-ট্রিপ সিলেক্ট করে আপনার গন্তব্য এবং তারিখ ইনপুট দিন।
*এয়ারলাইনস নির্বাচন: বাজেট এবং সময় অনুযায়ী পছন্দের এয়ারলাইনস নির্বাচন করুন।
*পেমেন্ট সোর্স সিলেক্ট: সেলফিন ব্যালেন্স, ইসলামী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা লিঙ্কড কার্ড থেকে পেমেন্ট সোর্স বেছে নিন।
*পিন দিয়ে কনফার্মেশন: আপনার গোপন পিন নম্বর দিয়ে ট্রানজেকশনটি সম্পন্ন করুন এবং ই-টিকিট ডাউনলোড করে নিন।
##ব্যাংক কার্ড দিয়ে ফ্লাইটের টিকিট কাটার নিয়ম
*আপনার যদি কোনো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট না থাকে, তবুও আপনি যেকোনো ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে টিকিট কাটতে পারবেন। এই নিয়মটি মূলত *বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি বা এয়ারলাইনসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও অ্যাপের জন্য প্রযোজ্য।
*এজেন্সি বা এয়ারলাইনস অ্যাপ ডাউনলোড: প্রথমে গো জায়ান, শেয়ারট্রিট বা নির্দিষ্ট এয়ারলাইনসের অ্যাপ ইনস্টল করুন।
*ফ্লাইট সার্চ: আপনার গন্তব্য, তারিখ এবং যাত্রীর সংখ্যা লিখে সার্চ করুন।
*পেমেন্ট গেটওয়ে নির্বাচন: পেমেন্ট অপশনে গিয়ে 'Card' বা 'Debit/Credit Card' অপশনটি বেছে নিন।
*কার্ডের তথ্য প্রদান: আপনার কার্ডের ১৬ ডিজিটের নম্বর, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং সিভিভি (CVV) কোডটি লিখুন।
*ওটিপি সাবমিট: আপনার ব্যাংকে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) কোড আসবে, সেটি বসিয়ে পেমেন্ট নিশ্চিত করুন।
##সেরা বিমানের টিকিট কাটার অ্যাপ নির্বাচনের কৌশল
*অনলাইনে টিকিট কাটার জন্য সঠিক অ্যাপ নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। একটি ভালো অ্যাপে সাধারণত নিচের সুবিধাগুলো থাকা উচিত:
*স্বচ্ছ মূল্য তালিকা: কোনো লুকানো চার্জ বা অতিরিক্ত ফি ছাড়া টিকিটের আসল দাম প্রদর্শন করা।
*সহজ রিফান্ড পলিসি: ফ্লাইট বাতিল বা পরিবর্তন করতে হলে যেন সহজে রিফান্ড পাওয়া যায়।
*গ্রাহক সেবা: যেকোনো সমস্যায় ২৪ ঘণ্টা কাস্টমার সাপোর্টের সুবিধা থাকা।
*ডিসকাউন্ট ও অফার: বিকাশ, সেলফিন বা নির্দিষ্ট ব্যাংক কার্ডে ক্যাশব্যাক ও প্রোমো কোডের সুবিধা থাকা।
ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে বিমানের টিকিট কাটা যেমন নিরাপদ, তেমনই সময়সাশ্রয়ী। ভ্রমণের পূর্বে আপনার অ্যাপের ব্যালেন্স বা কার্ডের লিমিট চেক করে নিন এবং টিকিট কাটার পর অবশ্যই ই-মেইলে প্রাপ্ত ই-টিকিটটি ভালো করে যাচাই করে নিন।
আপনার জিজ্ঞাসা এবং আমাদের উত্তর
১. ব্লগিং শুরু করতে কি অনেক টাকার প্রয়োজন হয়?
না, একদম ফ্রিতেও (Blogger বা WordPress.com ব্যবহার করে) ব্লগিং শুরু করা যায়। তবে প্রফেশনাল ব্লগের জন্য সামান্য খরচে ডোমেইন ও হোস্টিং কেনা ভালো।
২. ব্লগ থেকে মূলত কীভাবে আয় করা যায়?
ব্লগ থেকে সবচেয়ে জনপ্রিয় আয়ের উৎস হলো Google AdSense-এর বিজ্ঞাপন। এছাড়া অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, স্পন্সরড পোস্ট এবং নিজের কোনো সার্ভিস বিক্রি করেও আয় করা যায়。
৩. ব্লগিং শুরু করার কতদিন পর থেকে আয় শুরু হয়?
এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার কাজের ওপর। সাধারণত নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট লিখলে ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে সাইটে ভালো ভিজিটর আসতে শুরু করে এবং আয় শুরু করা যায়।
