DPS ক্যালকুলেটর সহজ: মাসিক কিস্তিতে কত টাকা পাবেন হিসাব করুন

DPS বা Deposit Pension Scheme হলো প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা জমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য বড় অংকের টাকা তৈরি করার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। বাংলাদেশের প্রায় সব ব্যাংক ৩, ৫, ১০ বছরের DPS অফার করে। আপনি প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জমা রাখতে পারেন। মেয়াদ শেষে আপনার মোট জমার সাথে ব্যাংক ঘোষিত মুনাফা যোগ হয়ে ফেরত আসে।

DPS ক্যালকুলেটর সহজ

আমাদের ক্যালকুলেটর কেন আলাদা?

অন্য সাইটগুলো শুধু মোট টাকা দেখায়। আমাদের ক্যালকুলেটরে ৪টি আপগ্রেড আছে যা hisheb.com এ নেই: ১. উৎসে কর (Tax) কাটার পর হাতে কত পাবেন তা দেখা যাবে, ২. প্রতি বছরের জমা ও লাভের আলাদা টেবিল, ৩. মাস শেষে কিস্তি জমার সঠিক গাণিতিক ফর্মুলা M = P × [((1+i)^n - 1) ÷ i] ব্যবহার করা হয়েছে, ৪. মোবাইল ফ্রেন্ডলি ও সুপার ফাস্ট।

DPS Calculator

DPS ক্যালকুলেটর সহজ

মাসিক কিস্তি, মুনাফার হার ও মেয়াদ দিয়ে মোট জমা, মুনাফা ও মেয়াদপূর্তির টাকা হিসাব করুন

১০০ টাকা১,০০,০০০ টাকা
১%২০%
ব্যাংক/পাঠক হিসাব করে বসাবেন

মোট জমা

Tk 0

মোট মুনাফা

Tk 0

মেয়াদপূর্তিতে পাবেন (সুদ সহ)

Tk 0

কর কর্তনের পর

Tk 0

আবগারী শুল্ক (Excise Duty)

Tk 0
ব্যাংক সার্কুলার মোতাবেক

চূড়ান্ত হাতে পাবেন (কর ও আবগারী বাদে)

Tk 0
⚠️ এটি একটি আনুমানিক হিসাব। মাসিক চক্রবৃদ্ধি ও মাসের শেষে কিস্তি জমার মডেলে হিসাব করা হয়েছে। ব্যাংকের নিজস্ব Maturity Table, কিস্তি জমার তারিখ ও রাউন্ডিং এর কারণে প্রকৃত টাকা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। সঠিক হার আপনার ব্যাংকের লেটেস্ট Rate Sheet থেকে নিন।
একটি বাস্তব উদাহরণ:
ধরুন আপনি ৫,০০০ টাকা করে ৫ বছরের জন্য DPS করলেন, ব্যাংক দিচ্ছে ৯.৫% মুনাফা। তাহলে আপনার মোট জমা হবে ৩,০০,০০০ টাকা। মুনাফা পাবেন প্রায় ৮৩,০০০ টাকা। মেয়াদ শেষে পাবেন ৩,৮৩,০০০ টাকা। ১০% কর কাটার পর হাতে থাকবে প্রায় ৩,৭৪,৭০০ টাকা।

আরো দেখুন: সরল সুদ ক্যালকুলেটর: আসল টাকা ও সময় দিয়ে সুদ হিসাব করুন

ডিপিএসের সহজ সূত্র যা ব্যাংক ব্যবহার করে

DPS এর হিসাব অনেকের কাছে জটিল মনে হলেও এর পেছনে একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক সূত্র কাজ করে। বাংলাদেশের প্রায় সব ব্যাংক মাসিক চক্রবৃদ্ধি মুনাফার ভিত্তিতে DPS হিসাব করে। সূত্রটি হলো:

M = P × [((1 + i)^n - 1) ÷ i]

এখানে M হলো মেয়াদ শেষে আপনি মোট কত টাকা পাবেন, P হলো আপনার মাসিক কিস্তি, i হলো মাসিক মুনাফার হার এবং n হলো মোট মাসের সংখ্যা। মাসিক মুনাফার হার বের করার জন্য বার্ষিক হারকে ১২ দিয়ে ভাগ করা হয়। যেমন বার্ষিক হার ৯% হলে মাসিক হার হবে ০.০৯ ÷ ১২ = ০.০০৭৫। এই সূত্রে ধরা হয় আপনি প্রতি মাসের শেষ দিনে কিস্তি জমা দিচ্ছেন। যদি আপনি মাসের শুরুতে জমা দেন তাহলে ফলাফলের সাথে আরও এক মাসের মুনাফা যোগ হবে। আমাদের ক্যালকুলেটর এই আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড সূত্র মেনেই তৈরি, তাই হিসাব সবচেয়ে কাছাকাছি আসে।

মাসিক কিস্তি বাড়ালে আসলে কী হয়

অনেকেই মনে করেন কিস্তি বাড়ালে শুধু জমা টাকা বাড়ে। আসলে এর সাথে মুনাফাও অনেক বেশি বাড়ে। কারণ DPS এ চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা হয়। অর্থাৎ আপনার আগের মাসের মুনাফার উপরও পরের মাসে মুনাফা যোগ হয়। আপনি যখন মাসিক কিস্তি ২০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০০ টাকা করেন, তখন শুধু আপনার মূলধন আড়াই গুণ হয় না, আপনার মোট মুনাফাও আড়াই গুণ হয়ে যায়। একই হার ও একই মেয়াদে বেশি টাকা জমালে ব্যাংক আপনাকে বেশি টাকার উপর মুনাফা দেয়। তাই যাদের সামর্থ্য আছে তাদের উচিত কম টাকার ২টি DPS না করে একটি বড় DPS করা। এতে হিসাব রাখা সহজ হয় এবং মুনাফা একটু বেশি পাওয়া যায়। ৬০ মাসের হিসাবে ২০০০ টাকার DPS এ জমা হয় ১,২০,০০০ টাকা, ৫০০০ টাকায় জমা হয় ৩,০০,০০০ টাকা এবং ১০,০০০ টাকায় জমা হয় ৬,০০,০০০ টাকা। মুনাফা যোগ হলে এই পার্থক্য আরও বাড়ে।

একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝে নিন ২০২৭ সালের হিসাবে

ধরুন আপনি ২০২৭ সালে একটি বেসরকারি ব্যাংকে DPS শুরু করলেন। প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা, বার্ষিক মুনাফার হার ৯.৫% এবং মেয়াদ ৫ বছর বা ৬০ মাস। আমাদের ক্যালকুলেটর অনুযায়ী আপনার মোট জমা হবে ৫০০০ × ৬০ = ৩,০০,০০০ টাকা। মাসিক চক্রবৃদ্ধি হিসাবে মোট মুনাফা হবে প্রায় ৮২,৮৭৮ টাকা। তাহলে মেয়াদ শেষে আপনি পাবেন ৩,৮২,৮৭৮ টাকা। এটি কর বাদ দেওয়ার আগের হিসাব। এই টাকার মধ্যে আপনার লাভই প্রায় ৮৩ হাজার টাকা, যা আপনি কোনো পরিশ্রম ছাড়াই পাচ্ছেন। আপনি যদি মেয়াদ ১০ বছর করেন তাহলে একই কিস্তিতে মোট পাবেন প্রায় ১০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি, কারণ ১০ বছরে চক্রবৃদ্ধির শক্তি অনেক বেশি কাজ করে।

মুনাফার হার কোথা থেকে নেবেন, ভুল হার দিলে কী হবে

DPS ক্যালকুলেটরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক মুনাফার হার দেওয়া। অনেক ব্লগে ২০২০ সালের পুরনো হার দেওয়া থাকে, যা দিয়ে হিসাব করলে আপনি ভুল ফলাফল পাবেন। ২০২৭ সালে বাংলাদেশে DPS এর হার ব্যাংক ভেদে ৭.৫% থেকে ১০% পর্যন্ত। সরকারি ব্যাংকে হার একটু কম, বেসরকারি ও ইসলামী ব্যাংকে হার একটু বেশি। আপনি যে ব্যাংকে DPS করবেন সেই ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের Rate Chart বা শাখায় গিয়ে DPS Rate Sheet চেয়ে নিন। একই ব্যাংকের ৩ বছরের DPS এবং ৫ বছরের DPS এর হারও আলাদা হতে পারে। তাই ইন্টারনেটের একটি সাধারণ হার সব ব্যাংকের জন্য ব্যবহার করবেন না। আমাদের ক্যালকুলেটরে আপনার ব্যাংকের সঠিক হার বসালেই একদম কাছাকাছি হিসাব পাবেন।

উৎসে করের বিষয়টি যা অনেকেই জানেন না

DPS এর মুনাফার উপর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উৎসে কর কাটা হয়। আপনি যখন মেয়াদ শেষে টাকা তুলতে যাবেন তখন ব্যাংক আপনার মুনাফা থেকে কর কেটে রাখবে। আপনার যদি TIN সার্টিফিকেট থাকে তাহলে ১০% কর কাটবে, TIN না থাকলে ১৫% কর কাটবে। যেমন আপনার মুনাফা যদি ৮০,০০০ টাকা হয় এবং আপনার TIN থাকে, তাহলে ব্যাংক ৮,০০০ টাকা কেটে আপনাকে ৭২,০০০ টাকা মুনাফা দেবে। তাই ক্যালকুলেটরে মোট টাকা বেশি দেখালেও হাতে পাওয়া টাকা কিছুটা কম হবে। আমাদের নতুন ক্যালকুলেটরে আমরা এই করের ঘর আলাদা রেখেছি যাতে আপনি কর সহ ও কর বাদে দুটো হিসাবই দেখতে পারেন।

মুনাফা ক্যালকুলেটর

আবগারি শুল্ক বা Excise Duty এর বিষয়টি

এটি হলো সরকার কর্তৃক ধার্য একটি বাৎসরিক ফি। আপনার DPS হিসাবে যদি বছরের যেকোনো সময় ব্যালেন্স ১০ লক্ষ টাকার বেশি হয় তাহলে সেই বছর ৩০০০ টাকা আবগারি শুল্ক কাটা হবে। ব্যালেন্স ১০ লক্ষ টাকার নিচে থাকলে এই শুল্ক সাধারণত ১৫০ টাকা। যেহেতু DPS এ টাকা ধীরে ধীরে জমে তাই প্রথম কয়েক বছর এই শুল্ক খুব বেশি আসে না। কিন্তু ১০ বছরের বড় DPS এ শেষের দিকে ব্যালেন্স ১০ লক্ষ পার হলে এই শুল্ক কাটবে। অনেকেই মুনাফা কম পাওয়ার কারণ হিসেবে এটিকে বোঝেন না। তাই মেয়াদ শেষে হিসাব মেলানোর সময় এই ছোট বিষয়টি মনে রাখবেন।

DPS নিয়ে সাধারণ ৫টি প্রশ্ন ও উত্তর
১. DPS এর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কি টাকা তোলা যায়? +
হ্যাঁ, তোলা যায়। একে Premature Encashment বলে। তবে সেক্ষেত্রে আপনি ঘোষিত মুনাফার হার পাবেন না। ব্যাংক সঞ্চয়ী হিসাবের হারে মুনাফা দেবে এবং কিছু চার্জ কাটবে। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মেয়াদের আগে না ভাঙাই ভালো।
২. মাসের কিস্তি দিতে দেরি হলে কী হবে? +
নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে কিস্তি না দিলে ব্যাংক বিলম্ব ফি বা Late Fee চার্জ করে। সাধারণত প্রতি কিস্তিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা। পরপর ৩ বার কিস্তি না দিলে DPS টি বাতিলও হয়ে যেতে পারে। তাই অটো ডেবিট চালু করে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ।
৩. DPS এর মুনাফা কি হালাল? ইসলামী ব্যাংকে কী বলে? +
প্রচলিত ব্যাংকে এটিকে সুদ বলা হয়। ইসলামী ব্যাংকগুলোতে এটিকে মুনাফা বলে এবং মুদারাবা নীতিতে পরিচালনা করা হয়। সেখানে লাভের হার আগে থেকে নির্দিষ্ট না থেকে ব্যাংকের ব্যবসার লাভের উপর ভাগ দেওয়া হয়। তবে হিসাবের পদ্ধতি প্রায় একই।
৪. ক্যালকুলেটরের হিসাবের সাথে ব্যাংকের হিসাবে কেন মিলে না? +
কারণ ব্যাংকগুলো কিস্তি জমার তারিখ, রাউন্ডিং, উৎসে কর এবং আবগারি শুল্ক কাটার পর নেট টাকা দেয়। আমাদের ক্যালকুলেটর মাসের শেষে জমা ও মাসিক চক্রবৃদ্ধি ধরে একটি আনুমানিক হিসাব দেয়। পার্থক্য সাধারণত ১ থেকে ২ শতাংশের বেশি হয় না।
৫. DPS এর জন্য কি TIN সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক? +
DPS খুলতে TIN বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু TIN থাকলে আপনি করের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন। TIN থাকলে মুনাফার উপর ১০% কর কাটবে, না থাকলে ১৫% কাটবে। তাই ৫০০০ টাকার বেশি মুনাফা হলে TIN ব্যবহার করা লাভজনক।
Next Post Previous Post
1 Comments
  • tut
    tut September 29, 2026 at 11:17 AM

    অনেক সুন্দর একটি কনটেন্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

Add Comment
comment url