FDR ক্যালকুলেটর: এককালীন জমায় কত মুনাফা পাবেন হিসাব করুন (FDR) | FinanceHub
এফডিআর (FDR) এর পূর্ণরূপ ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট। এটি ব্যাংকে টাকা রাখার সবচেয়ে পুরনো ও নিরাপদ পদ্ধতি। আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা একবারে ব্যাংকে জমা রাখেন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। ব্যাংক আপনাকে সেই সময়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট হারে মুনাফা দেয়। মেয়াদ শেষ হলে আপনি মূল টাকা ও মুনাফা একসাথে ফেরত পান। বাংলাদেশে প্রায় সব ব্যাংকে তিন মাস, ছয় মাস, বারো মাস, চব্বিশ মাস ও ষাট মাস মেয়াদি এফডিআর আছে। যারা ঝুঁকি ছাড়া নিশ্চিত আয় চান তাদের জন্য এফডিআর সবচেয়ে ভালো।
এই ক্যালকুলেটর যেভাবে হিসাব করে
আমাদের ক্যালকুলেটর খুব সহজভাবে কাজ করে। প্রথমে আপনি কত টাকা জমা রাখবেন তা লিখবেন। তারপর বার্ষিক মুনাফার হার কত তা দেবেন। এরপর মেয়াদ কত মাস রাখবেন তা নির্বাচন করবেন। এর সাথে উৎসে করের হার ও আবগারী শুল্কের ঘর আছে। ক্যালকুলেটর মূল টাকার উপর সময় ও হারের গুণ করে মোট সুদ বের করে। তারপর সেই সুদ থেকে কর বাদ দেয় এবং আবগারী শুল্ক বাদ দিয়ে চূড়ান্ত প্রাপ্য টাকা দেখায়। এটি সাধারণ সুদ ও চক্রবৃদ্ধি উভয় পদ্ধতিতে হিসাব করতে পারে।
এফডিআর ক্যালকুলেটর সহজ
এককালীন জমা, মুনাফার হার ও মেয়াদ দিয়ে সুদ ও মেয়াদ শেষে প্রাপ্য টাকা হিসাব করুন
১,০০০ টাকা১ কোটি
১%২০%
TIN থাকলে ১০%, না থাকলে ১৫%
সার্কুলার অনুযায়ী বসান
মূল টাকা
Tk 0
মোট সুদ / মুনাফা
Tk 0
উৎসে কর কর্তন
Tk 0
আবগারী শুল্ক
Tk 0
নিট মুনাফা (কর বাদে)
Tk 0
মেয়াদ শেষে মোট পাবেন
Tk 0
এটি একটি আনুমানিক হিসাব। ব্যাংকের ডে কাউন্ট পদ্ধতি, পেমেন্ট টাইমিং, রাউন্ডিং, প্রিম্যাচিউর নিয়ম এবং নিজস্ব শর্তের কারণে প্রকৃত টাকা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। এফডিআর করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ রেট শিট দেখে নিন।
এফডিআর এর সহজ হিসাব সূত্র
FDR এর হিসাবের জন্য ব্যাংকগুলো সাধারণত যে সূত্র ব্যবহার করে তা হলো
গ্রস সুদ সমান আসল টাকা গুণ বার্ষিক হার ভাগ একশত গুণ মাস ভাগ বারোনিট সুদ সমান গ্রস সুদ বিয়োগ উৎসে করমেয়াদ শেষে প্রাপ্য টাকা সমান আসল টাকা যোগ নিট সুদ বিয়োগ আবগারী শুল্ক
এখানে আসল টাকা হলো আপনার জমার পরিমাণ, বার্ষিক হার হলো ব্যাংক ঘোষিত হার, মাস হলো আপনি কত মাস রাখবেন। এই সূত্রে ধরা হয় সুদ মেয়াদের মধ্যে মূল টাকার সাথে যোগ হচ্ছে না। যদি চক্রবৃদ্ধি হয় তাহলে সূত্র আলাদা হবে।
আরো দেখুন: FDR ক্যালকুলেটর: এককালীন জমায় কত মুনাফা পাবেন হিসাব করুন (FDR)
একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বুঝি
ধরুন আপনি এক লক্ষ টাকা বারো মাসের জন্য এফডিআর করলেন। ব্যাংক আপনাকে নয় শতাংশ হারে মুনাফা দিচ্ছে। তাহলে সাধারণ সূত্রে গ্রস সুদ হবে এক লক্ষ গুণ নয় ভাগ একশত গুণ বারো ভাগ বারো সমান নয় হাজার টাকা। আপনার টিন সার্টিফিকেট থাকলে দশ শতাংশ কর কাটবে। কর হবে নয়শত টাকা। তাহলে নিট মুনাফা হবে আট হাজার একশত টাকা। আবগারী শুল্ক যদি একশত পঞ্চাশ টাকা হয় তাহলে মেয়াদ শেষে আপনি পাবেন এক লক্ষ আট হাজার একশত বিয়োগ একশত পঞ্চাশ সমান এক লক্ষ সাত হাজার নয়শত পঞ্চাশ টাকা। এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায় কিভাবে হিসাব হয়।
এফডিআর (FDR) এর মুনাফার হার কিভাবে নির্ধারণ করবেন
এফডিআর এর হার সব ব্যাংকে এক রকম নয়। একই ব্যাংকেও তিন মাস ও বারো মাসের হার আলাদা হতে পারে। জমার পরিমাণের উপর ভিত্তি করেও হার বদলাতে পারে। তাই ইন্টারনেটে দেখা পুরনো হার দিয়ে হিসাব করলে ভুল হবে। আপনি যে ব্যাংকে এফডিআর করবেন সেই ব্যাংকের সর্বশেষ ডিপোজিট রেট শিট দেখুন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী দুই হাজার ছাব্বিশ সালে বিভিন্ন মেয়াদে গড় হার আলাদা ছিল। তাই আপনার শাখা থেকে বর্তমান হার জেনে ক্যালকুলেটরে বসান। ইসলামী ব্যাংকে মুনাফা ভাগাভাগির ভিত্তিতে হয় তাই সেখানে হার আগে থেকে নির্দিষ্ট থাকে না।
উৎসে কর নিয়ে যা জানা দরকার
এফডিআর এর সুদ থেকে সরকারি নিয়মে উৎসে কর কাটা হয়। আপনার যদি টিন সার্টিফিকেট থাকে তাহলে দশ শতাংশ কর কাটবে। টিন না থাকলে পনেরো শতাংশ কাটবে। কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানি হিসাবে হার আরও বেশি হতে পারে। এই কর আপনার মোট আয়করের সাথে সমন্বয় করা যায়। আমাদের ক্যালকুলেটরে করের ঘর আলাদা রাখা হয়েছে যাতে আপনি আপনার জন্য প্রযোজ্য হার বসিয়ে নিট হিসাব দেখতে পারেন।
মেয়াদ শেষের আগে ভাঙলে কি হয়
অনেকে জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদ শেষের আগে এফডিআর ভেঙে ফেলেন। একে প্রিম্যাচিউর এনক্যাশমেন্ট বলে। এই ক্ষেত্রে ব্যাংক পূর্ণ হারে মুনাফা দেয় না। সাধারণত সঞ্চয়ী হিসাবের হারে মুনাফা দেয় অথবা নির্ধারিত হার থেকে এক বা দুই শতাংশ কম দেয়। কিছু ব্যাংক চার্জও কাটে। তাই এফডিআর করার আগে প্রিম্যাচিউর ভাঙানোর শর্ত জেনে নেওয়া ভালো। আমাদের ক্যালকুলেটর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার হিসাব দেখায়, আগাম ভাঙানোর হিসাব দেখায় না।
তথ্যের উৎস কোথা থেকে নেওয়া
এই পোস্টে দেওয়া ব্যাখ্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের আমানতের সুদ হারের পরিসংখ্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উৎসে কর সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের প্রকাশিত ডিপোজিট রেট শিটের কাঠামো দেখে তৈরি করা হয়েছে। কোনো ব্যাংকের নির্দিষ্ট হার এখানে ধরে দেওয়া হয়নি। আপনি আপনার ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য ব্যবহার করবেন।
আমার পরামর্শ
FDR করার আগে তিনটি ব্যাংকের হার তুলনা করুন। ছোট মেয়াদে না করে বারো মাস বা তার বেশি মেয়াদে করলে হার বেশি পাবেন। টিন সার্টিফিকেট থাকলে কর কম কাটবে তাই টিন করে নিন। মেয়াদ শেষে টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে কিনা তা জেনে নিন। এবং অবশ্যই আবগারী শুল্কের বিষয়টি মাথায় রাখুন।
FDR নিয়ে সাধারণ ৫টি প্রশ্ন ও উত্তর
১. FDR ক্যালকুলেটর কি হিসাব করে +
এই ক্যালকুলেটর এককালীন জমা, বার্ষিক হার ও মেয়াদ থেকে মোট সুদ, উৎসে কর, আবগারী শুল্ক ও মেয়াদ শেষে প্রাপ্য টাকা হিসাব করে।
২. FDR এর হার কি সব ব্যাংকে একই +
না। ব্যাংক, মেয়াদ ও জমার পরিমাণ অনুযায়ী হার আলাদা হয়। তাই আপনার ব্যাংকের সর্বশেষ রেট শিটের হার ব্যবহার করুন।
৩. এই ক্যালকুলেটর কি চক্রবৃদ্ধি সুদ ধরে +
ডিফল্ট হিসাবে সাধারণ সুদ ধরা হয়। তবে আপনি চাইলে চক্রবৃদ্ধি অপশন নির্বাচন করে হিসাব করতে পারেন।
৪. মেয়াদ শেষের আগে ভাঙলে কি হবে +
আগে ভাঙলে পূর্ণ হার পাবেন না। ব্যাংক কম হার দেবে এবং কিছু ক্ষেত্রে চার্জ কাটতে পারে।
৫. ক্যালকুলেটরের হিসাব কি ব্যাংকের সাথে হুবহু মিলবে +
সবসময় নাও মিলতে পারে। ডে কাউন্ট পদ্ধতি, রাউন্ডিং, কর ও শুল্কের কারণে সামান্য পার্থক্য হতে পারে। এটি একটি আনুমানিক হিসাব।
